জমির পরিমাপ ক্যালকুলেটর — শতক, কাঠা, বিঘা, একর কনভার্টার

🏡 জমির পরিমাপ কনভার্টার

শতক • ডেসিমেল • কাঠা • বিঘা • একর • বর্গফুট • আকৃতি অনুযায়ী হিসাব
💡 একটি মান লিখুন। ফলাফল একই সঙ্গে সব প্রচলিত জমির মাপের এককে দেখতে পারবেন।
রূপান্তরের ফলাফল
0
কাঠা
📊 সব ইউনিটে ফলাফল
শতক 0
ডেসিমেল 0
কাঠা 0
বিঘা 0
একর 0
বর্গফুট 0
বর্গমিটার 0
বর্গগজ 0
📐 আয়তক্ষেত্র, ত্রিভুজ বা বৃত্ত আকৃতির জমির ক্ষেত্রফল বের করুন। আপনার কাছে যে তথ্য আছে (যেমন তিন বাহুর দৈর্ঘ্য, শুধু ব্যাস, বা ভিত্তি-উচ্চতা) সেটা বেছে হিসাব করুন — কোনো একটাতেই আটকে থাকতে হবে না।
বর্গফুট0
শতক0
কাঠা0
বিঘা0
একর0
বর্গমিটার0
💰 জমির পরিমাণ এবং প্রতি unit-এর দাম দিয়ে মোট আনুমানিক মূল্য হিসাব করুন।
মোট আনুমানিক জমির মূল্য
৳0
🧮 এই ট্যাবে দুটি ক্যালকুলেটর আছে: বাজেট অনুযায়ী কত জমি কিনতে পারবেন এবং বিঘা + কাঠা একসাথে হিসাব।

💵 বাজেট অনুযায়ী জমির পরিমাণ

আপনি কিনতে পারবেন 0 শতক

🧮 বিঘা + কাঠা হিসাব

মোট কাঠা0
মোট শতক0
মোট বর্গফুট0
মোট একর0
⚠️ গুরুত্বপূর্ণ: জমির কাঠা/বিঘার প্রচলিত মাপ অঞ্চলভেদে ভিন্ন হতে পারে। আপনার দলিল, স্থানীয় ভূমি অফিস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যবহৃত মাপকে চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করুন।
🕘 সাম্প্রতিক হিসাব সব মুছুন

    Table of Contents

    জমি কেনার সময় দলিলে লেখা “৫ কাঠা” পড়ে মাথা ঘুরে যাওয়ার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটা পরিবারেরই আছে। বিক্রেতা বলছেন কাঠায়, আপনার এলাকার মানুষ হিসাব করে শতকে, আবার সরকারি নথিতে লেখা বর্গফুটে বা ডেসিমেলে। এই সংখ্যাগুলো একসাথে মেলাতে গিয়ে অনেকেই ভুল করে বসেন — আর জমির মতো বড় খরচের জায়গায় এই ভুলের মাশুল অনেক বেশি।

    নিচে বাংলাদেশে প্রচলিত সবকটা জমির একক, সেগুলোর মধ্যে সঠিক রূপান্তরের হিসাব, এবং একদম উপরে দেওয়া জমির পরিমাপ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে কীভাবে সেকেন্ডেই যেকোনো হিসাব বের করবেন তা ধাপে ধাপে দেখানো হলো।

    জমির পরিমাপ নিয়ে বিভ্রান্তি কেন হয়

    বাংলাদেশে জমির একক নিয়ে বিভ্রান্তির মূল কারণ একটাই — একই জমির পরিমাণ একসাথে কয়েক রকম এককে প্রকাশ করা যায়, আর প্রতিটা এককের সংখ্যা দেখতে সম্পূর্ণ ভিন্ন লাগে। যেমন একটা নির্দিষ্ট জমি একইসাথে “৩ কাঠা”, “৪.৯৬ শতক”, আবার “২,১৬০ বর্গফুট” — তিনটাই সঠিক, শুধু এককের পার্থক্য। এই লেখার লক্ষ্য হলো এই তিন-চার রকম সংখ্যার মধ্যে সম্পর্কটা একবারে পরিষ্কার করে দেওয়া।

    বাংলাদেশে প্রচলিত জমির একক ও রূপান্তর সারণি

    নিচের টেবিলে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জমির একক এবং তাদের বর্গফুট ও শতকে রূপান্তর দেওয়া হলো:

    এককবর্গফুটেশতকে
    ১ শতক (ডেসিমেল)৪৩৫.৬ বর্গফুট
    ১ কাঠা৭২০ বর্গফুট১.৬৫
    ১ বিঘা (২০ কাঠা)১৪,৪০০ বর্গফুট৩৩.০৬
    ১ একর৪৩,৫৬০ বর্গফুট১০০
    ১ বর্গমিটার১০.৭৬ বর্গফুট০.০২৩
    ১ বর্গগজ৯ বর্গফুট০.০২১

    ১ শতক কত বর্গফুট

    ১ শতক (যাকে ডেসিমেলও বলা হয়) সমান ৪৩৫.৬ বর্গফুট। বাংলাদেশে “শতক” আর “ডেসিমেল” — দুইটাই একই এককের দুই নাম, তাই কেউ যদি “১ ডেসিমেল কত বর্গফুট” জিজ্ঞেস করে, উত্তর একই থাকবে।

    ১ কাঠা কত বর্গফুট এবং কত শতক

    ১ কাঠা = ৭২০ বর্গফুট। শতকে হিসাব করলে ১ কাঠা প্রায় ১.৬৫ শতকের সমান (৭২০ ÷ ৪৩৫.৬)। এই কারণেই দলিলে “কাঠা” থেকে “শতক”-এ রূপান্তর করতে গেলে সরাসরি গুণ-ভাগ মনে না রেখে ক্যালকুলেটর ব্যবহার করাই নিরাপদ।

    ১ বিঘা কত কাঠা এবং কত শতক

    বাংলাদেশে প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী ১ বিঘা = ২০ কাঠা। এটাকে বর্গফুটে আনলে দাঁড়ায় ১৪,৪০০ বর্গফুট, আর শতকে প্রায় ৩৩.০৬ শতক।

    ১ একর কত শতক এবং কত বিঘা

    ১ একর = ১০০ শতক = ৪৩,৫৬০ বর্গফুট। বিঘার হিসাবে আনলে ১ একর প্রায় ৩.০২৫ বিঘার সমান — অর্থাৎ ৩ বিঘার একটু বেশি।

    জমির একক এত বৈচিত্র্যময় কেন — সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

    মোগল ও ব্রিটিশ আমলে জমি জরিপের জন্য অঞ্চলভেদে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহৃত হতো — কোথাও দড়ি দিয়ে মাপা হতো (এখান থেকেই “কাঠা” শব্দের উৎপত্তি বলে ধারণা করা হয়), কোথাও শতাংশ হিসাবে জমি মাপা হতো, যা থেকে “শতক” নামটা এসেছে। স্বাধীনতার পরেও এই পুরনো এককগুলো টিকে গেছে, কারণ পুরনো দলিল-দস্তাবেজ সবই সেই এককে লেখা। ফলে আজও একই দেশে একসাথে কাঠা, শতক, বিঘা, একর — সব একক পাশাপাশি চলছে।

    জমির পরিমাপ ক্যালকুলেটর কীভাবে ব্যবহার করবেন

    জমির পরিমাপ ক্যালকুলেটর — শতক, কাঠা, বিঘা, একর কনভার্টার

    উপরের ক্যালকুলেটরে পাঁচটা ট্যাব আছে, প্রতিটার কাজ আলাদা:

    কনভার্ট ট্যাব — এক একক থেকে আরেক এককে রূপান্তর

    যদি আপনার কাছে ইতিমধ্যে একটা সংখ্যা থাকে (যেমন দলিলে লেখা “৫ কাঠা”) এবং সেটা অন্য এককে জানতে চান:

    1. “জমির পরিমাণ” ঘরে ৫ লিখুন
    2. “From” থেকে বেছে নিন কাঠা
    3. “To” থেকে যে এককে জানতে চান সেটা বেছে নিন (যেমন শতক)
    4. ফলাফলে সাথে সাথে দেখাবে এটা কত শতক, বিঘা, একর, বর্গফুট, বর্গমিটার

    আকৃতি ট্যাব — দৈর্ঘ্য-প্রস্থ দিয়ে ক্ষেত্রফল বের করা

    যদি জমির মাপ এখনো এককে রূপান্তর করা না থাকে, বরং শুধু দৈর্ঘ্য-প্রস্থ জানা থাকে — ধরুন প্লট ৪০ ফুট চওড়া, ৬০ ফুট লম্বা:

    1. আকৃতি থেকে “আয়তক্ষেত্র” বেছে নিন
    2. দৈর্ঘ্যে ৬০, প্রস্থে ৪০ লিখুন
    3. ফলাফলে দেখাবে ২,৪০০ বর্গফুট, যা প্রায় ৫.৫১ শতক

    ত্রিভুজাকার জমির ক্ষেত্রে (যেমন কোণাকৃতি প্লট) যদি শুধু তিন বাহুর দৈর্ঘ্য জানা থাকে, উচ্চতা না জেনেও Heron’s Formula দিয়ে ক্ষেত্রফল বের করা যায় — “তিন বাহুর দৈর্ঘ্য” অপশন বেছে নিলেই হবে। গোলাকার জমির জন্য ব্যাসার্ধ বা ব্যাস — যেটা জানা আছে সেটা দিয়েই হিসাব করা যায়।

    দাম ট্যাব — জমির মূল্য হিসাব

    জমির পরিমাণ ও প্রতি এককের দাম জানা থাকলে এই ট্যাবে মোট মূল্য মুহূর্তেই বের করা যায় — জমি কেনার আগে বাজেট মেলাতে এটা কাজে লাগে।

    মিক্সড ট্যাব — বিঘা ও কাঠা একসাথে হিসাব

    দলিলে প্রায়ই “১ বিঘা ৫ কাঠা” এভাবে মিশ্র হিসাবে লেখা থাকে। এই ট্যাবে দুটো আলাদা ঘরে বিঘা ও কাঠা লিখলে মোট শতক ও বর্গফুট বের হয়ে যাবে, আলাদা করে গুণ-ভাগ করতে হবে না।

    সেটিংস ট্যাব — আঞ্চলিক হিসাব কাস্টমাইজ করা

    যদি আপনার এলাকায় প্রচলিত হিসাব একটু ভিন্ন হয়, এখান থেকে rate পরিবর্তন করে নিজের এলাকার হিসাব অনুযায়ী সেট করে নেওয়া যায়।

    বাস্তব উদাহরণ দিয়ে জমির হিসাব শেখা

    ৩ কাঠার প্লট কত শতক

    ঢাকার আশেপাশে আবাসিক এলাকায় সাধারণত ৩ কাঠার প্লট দেখা যায়। এটা কতটা জমি বুঝতে:

    • ৩ কাঠা = ৩ × ৭২০ = ২,১৬০ বর্গফুট
    • শতকে আনলে: ২,১৬০ ÷ ৪৩৫.৬ ≈ ৪.৯৬ শতক

    ২ বিঘা জমি কত একর

    গ্রামাঞ্চলে জমি প্রায়ই বিঘায় কেনাবেচা হয়। ২ বিঘা জমি মানে:

    • ২ বিঘা = ২ × ২০ কাঠা = ৪০ কাঠা = ৪০ × ৭২০ = ২৮,৮০০ বর্গফুট
    • একরে আনলে: ২৮,৮০০ ÷ ৪৩,৫৬০ ≈ ০.৬৬ একর

    ৪০ ফুট বাই ৬০ ফুট প্লট কত শতক

    এই হিসাব “আকৃতি” ট্যাবের সবচেয়ে সাধারণ ব্যবহার — ৪০ × ৬০ = ২,৪০০ বর্গফুট, যা প্রায় ৫.৫১ শতক।

    এই ধরনের হিসাব হাতে করতে গেলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি — উপরের ক্যালকুলেটরে সংখ্যাটা বসালেই মুহূর্তে সঠিক ফলাফল পাওয়া যায়।

    জমি কেনার আগে একক নিয়ে যা যাচাই করা জরুরি

    • দলিলের একক আর মৌখিক আলোচনার একক এক কিনা যাচাই করুন। বিক্রেতা মুখে “৫ কাঠা” বললেও দলিলে যদি ভিন্ন সংখ্যা লেখা থাকে, সেটাই আইনগতভাবে বলবৎ থাকে।
    • স্থানীয় প্রচলন যাচাই করুন। একই “কাঠা” শব্দ ব্যবহার হলেও এলাকাভেদে প্রকৃত বর্গফুটের পরিমাণ সামান্য ভিন্ন হতে পারে — সাব-রেজিস্ট্রি অফিস বা স্থানীয় ভূমি অফিসে নিশ্চিত হয়ে নিন।
    • জমির প্রকৃত মাপ সরেজমিনে যাচাই করুন। দলিলের সংখ্যা আর বাস্তবে মেপে পাওয়া সংখ্যার মধ্যে অমিল থাকলে আগেই প্রশ্ন তুলুন।
    • রেজিস্ট্রেশন ফি ও ট্যাক্স হিসাবের সময় সরকারি নথিতে সাধারণত শতক বা ডেসিমেল এককে হিসাব করা হয় — তাই কাঠা বা বিঘায় কেনা জমিরও শতকের হিসাব হাতের কাছে রাখা ভালো।

    আঞ্চলিক একক: কানি, গণ্ডা, কড়া

    সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে জমির হিসাবে কানি, গণ্ডা, কড়ার মতো আলাদা স্থানীয় একক প্রচলিত, যেগুলোর প্রকৃত পরিমাণ এলাকাভেদে ভিন্ন হতে পারে। যেহেতু এই এককগুলোর কোনো একক সর্বজনস্বীকৃত মান নেই, তাই এই ধরনের একক দলিলে দেখলে অনুমান না করে স্থানীয় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যাচাই করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

    প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

    ১ শতক কত বর্গফুট?
    ১ শতক সমান ৪৩৫.৬ বর্গফুট।

    শতক আর ডেসিমেল কি একই জিনিস?
    হ্যাঁ, বাংলাদেশে শতক ও ডেসিমেল একই এককের দুই নাম — দুটোই ৪৩৫.৬ বর্গফুটের সমান।

    ১ কাঠা কত বর্গফুট?
    ১ কাঠা = ৭২০ বর্গফুট, যা প্রায় ১.৬৫ শতকের সমান।

    ১ বিঘায় কত কাঠা?
    বাংলাদেশে প্রচলিত হিসাবে ১ বিঘা = ২০ কাঠা।

    ১ বিঘা কত শতক?
    ১ বিঘা প্রায় ৩৩.০৬ শতকের সমান (১৪,৪০০ বর্গফুট)।

    ১ একরে কত শতক?
    ১ একর = ১০০ শতক।

    ১ একর কত বিঘা?
    ১ একর প্রায় ৩.০২৫ বিঘার সমান — অর্থাৎ ৩ বিঘার সামান্য বেশি।

    সিলেট বা চট্টগ্রামের জমির একক কি ঢাকার মতোই?
    পুরোপুরি না। এই অঞ্চলগুলোতে কানি, গণ্ডা, কড়ার মতো আলাদা একক প্রচলিত, যেগুলোর হিসাব স্থানভেদে ভিন্ন হতে পারে — তাই এসব ক্ষেত্রে স্থানীয় ভূমি অফিসে যাচাই করে নেওয়া উচিত।

    আয়তক্ষেত্র ছাড়া অন্য আকৃতির জমির ক্ষেত্রফল কীভাবে বের করব?
    ত্রিভুজাকার জমির জন্য ভিত্তি-উচ্চতা বা তিন বাহুর দৈর্ঘ্য দিয়ে, আর গোলাকার জমির জন্য ব্যাসার্ধ বা ব্যাস দিয়ে উপরের ক্যালকুলেটরের “আকৃতি” ট্যাব থেকে সরাসরি হিসাব করা যায়।

    শেষ কথা

    জমির একক নিয়ে বিভ্রান্তি নতুন কিছু না, তবে সঠিক তথ্য হাতের কাছে থাকলে এই বিভ্রান্তি এড়ানো সহজ। উপরের জমির পরিমাপ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে শতক, কাঠা, বিঘা, একর, বর্গফুট — যেকোনো একক থেকে যেকোনো এককে মুহূর্তেই রূপান্তর করে নিতে পারবেন, জমি কেনার আগে বাজেট মেলাতে পারবেন, আর আয়তক্ষেত্র, ত্রিভুজ বা বৃত্তাকার প্লটের প্রকৃত ক্ষেত্রফলও বের করে নিতে পারবেন।

    এই লেখায় ব্যবহৃত রূপান্তর মানগুলো বাংলাদেশে সাধারণভাবে প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে। জমি সংক্রান্ত যেকোনো আইনগত বা আর্থিক সিদ্ধান্তের আগে দলিল ও স্থানীয় ভূমি অফিসের তথ্য অনুযায়ী চূড়ান্তভাবে যাচাই করে নিন।