প্রিয় মানুষটি চোখের আড়ালে, তাই বলে কি মনের আড়ালে? হাজার মাইল দূরে থেকেও ভালোবাসা টিকিয়ে রাখা কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়। অনেকেই বলেন, “দূরে থাকলে সম্পর্ক টেকে না”—আজ আমরা সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করব। জেনে নিন এমন ১০টি কার্যকরী কৌশল, যা আপনার লং ডিস্টেন্স রিলেশনশিপকে শুধু টিকিয়েই রাখবে না, বরং আগের চেয়েও মজবুত করবে।
আর্টিকেল সূচিপত্র
- 👉 ভূমিকা: দূরত্বই কি সম্পর্কের অন্তরায়?
- 👉 ১. নিয়মিত ও গুণগত যোগাযোগের রুটিন তৈরি করুন
- 👉 ২. রিয়েলিস্টিক এক্সপেক্টেশন সেট করুন
- 👉 ৩. ভার্চুয়াল ডেটের জন্য সৃজনশীল আইডিয়া
- 👉 ৪. স্বচ্ছতা ও বিশ্বাস অটুট রাখুন
- 👉 ৫. ভবিষ্যতের জন্য একটি সাধারণ পরিকল্পনা রাখুন
- 👉 ৬. নিজের একটি পূর্ণ ও সক্রিয় জীবন গড়ে তুলুন
- 👉 ৭. স্মৃতি ও অনুভূতি শেয়ার করার জন্য টেকনোলজির সর্বোচ্চ ব্যবহার
- 👉 ৮. আপৎকালীন বিরোধ নিষ্পত্তির গাইডলাইন ফিক্স করুন
- 👉 ৯. স্পর্শের অভাব পূরণের জন্য বিকল্প উপায় খুঁজুন
- 👉 ১০. ছোট ছোট মুহূর্তগুলোকে উপভোগ করতে শিখুন
- 👉 উপসংহার: দূরত্বকে করুন পাথেয়, অন্তরায় নয়
- 👉 লং ডিস্টেন্স রিলেশনশিপ বিষয়ে প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ভূমিকা: দূরত্বই কি সম্পর্কের অন্তরায়?
দূরত্ব নামক শব্দটির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক জটিল। প্রেম, ভালোবাসা কিংবা দাম্পত্য – যে কোনও ঘনিষ্ঠ লং ডিস্টেন্স রিলেশনশিপ-এর প্রেক্ষাপটে দূরত্বকে প্রায়শই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু প্রচলিত এই ধারণাকে ভেঙে দিতে পারে কিছু কার্যকরী কৌশল ও দৃঢ় মানসিকতা। বিশ্বায়নের এই যুগে শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র বা পরিবারগত কারণেও বহু জুটি দীর্ঘ দূরত্ব মোকাবিলা করছেন।
মজার ব্যাপার হলো, গবেষণা বলছে সঠিকভাবে পরিচালিত হলে একটি দূরের সম্পর্ক নিকটের সম্পর্কের চেয়ে বেশি গভীর ও অর্থপূর্ণ হতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন ইচ্ছাশক্তি, সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা এবং কিছু অত্যাবশ্যক দক্ষতা। এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করব লং ডিস্টেন্স রিলেশনশিপ টিকিয়ে রাখার জন্য ১০টি প্রায়োগিক ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে কার্যকরী টিপস, যা আপনার সম্পর্ককে দূরত্বের মাঝেও উষ্ণ ও সতেজ রাখতে সাহায্য করবে।

১. নিয়মিত ও গুণগত যোগাযোগের রুটিন তৈরি করুন
লং ডিস্টেন্স রিলেশনশিপ-এর সবচেয়ে বড় স্তম্ভ হলো যোগাযোগ। কিন্তু শুধু বার্তা পাঠানোই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন গুণগত ও অর্থপূর্ণ যোগাযোগ। প্রতিদিন “কেমন আছ?” ছাড়াও গভীর, খোলামেলা কথোপকথনের জন্য সময় বরাদ্দ রাখুন।
কার্যকরী যোগাযোগের কৌশল:
- ফিক্সড শিডিউল: উভয়ের সুবিধামত সপ্তাহে কয়েকটি নির্দিষ্ট সময় ফিক্স করুন ভিডিও কল বা লম্বা ফোনালাপের জন্য। এটি একটি প্রত্যাশা তৈরি করবে এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত করবে।
- কমিউনিকেশন মিডিয়ামের ভিন্নতা: শুধু টেক্সট নয়, ভয়েস নোট, ভিডিও মেসেজ, এমনকি হাতে লেখা চিঠিও পাঠানোর চেষ্টা করুন। এই ভিন্নতা অনুভূতিকে স্পর্শযোগ্য করে তোলে।
- সক্রিয় শ্রবণ: যখন আপনার পার্টনার কথা বলছেন, পুরো মনোযোগ দিয়ে শুনুন। শুধু সমস্যার সমাধান দেবার চেষ্টা না করে তার অনুভূতি বুঝতে চেষ্টা করুন।
মনে রাখবেন, লং ডিস্টেন্স লাভ-এ অতিরিক্ত যোগাযোগও ক্লান্তিকর হতে পারে। একে অপরের ব্যক্তিগত স্থান ও ব্যস্ততার সময়কে সম্মান করুন। সম্পর্ককে আরও গভীর করতে চাইলে সম্পর্ক গভীর করার টিপস জানতে পারেন।
২. রিয়েলিস্টিক এক্সপেক্টেশন সেট করুন
অযৌক্তিক প্রত্যাশা থেকে জন্ম নেয় হতাশা। দুজনই যদি ভিন্ন টাইমজোনে থাকেন, তাহলে প্রতিদিন রাতভর কথা বলা বাস্তবসম্মত নয়। সম্পর্কের জন্য বাস্তবসম্মত লক্ষ্য ও প্রত্যাশা আলোচনা করে নিন।
- আপনারা কত ঘন ঘন যোগাযোগ করবেন?
- কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবেন?
- পরবর্তী দেখা কখন হতে পারে?
- এই দূরত্ব কতদিন স্থায়ী হতে পারে?
এই আলোচনা অস্বস্তিকর মনে হতে পারে, কিন্তু এটি দূরের প্রেমের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি। এটি অনিশ্চয়তা কমায় এবং উভয়কে একই পৃষ্ঠায় নিয়ে আসে।
৩. ভার্চুয়াল ডেটের জন্য সৃজনশীল আইডিয়া
ডেট নাইট শুধু একসাথে বাইরে যাওয়া নয়। দূরের সম্পর্ক-এ ভার্চুয়াল ডেট নাইট হতে পারে আনন্দের অফুরান উৎস। একইসাথে কিছু করা অনুভূতিকে কাছে নিয়ে আসে।
কিছু আইডিয়া:
- সিনেমা নাইট: ভিডিও কল চালু রেখে একইসাথে কোনো মুভি বা সিরিজ দেখা। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের স্ক্রিন শেয়ারিং অপশন ব্যবহার করা যেতে পারে।
- ভার্চুয়াল ডিনার: একই রেসিপি রান্না করে বা একই ধরনের খাবার অর্ডার দিয়ে একসাথে ডিনার করা।
- গেমিং সেশন: অনলাইন মাল্টিপ্লেয়ার গেম খেলা, বা কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা।
- ভবিষ্যতের প্ল্যানিং: একসাথে অনলাইনে ভ্রমণের গন্তব্য বা পরবর্তী মিলনের জন্য অ্যাকটিভিটি রিসার্চ করা।
এরকম আরও রোমান্টিক ডেট নাইট আইডিয়া সম্পর্কে জানতে আমাদের অন্য আর্টিকেল দেখতে পারেন।
৪. স্বচ্ছতা ও বিশ্বাস অটুট রাখুন
লং ডিস্টেন্স রিলেশনশিপ টিকিয়ে রাখার জন্য বিশ্বাসই প্রধান ভিত্তি। দৃশ্যের বাইরে কী ঘটছে তা না জানার কারণে ঈর্ষা, সন্দেহ ও অনিশ্চয়তা জন্ম নিতে পারে। স্বচ্ছ থাকুন।
- আপনার দিন কীভাবে কাটল, নতুন কোন বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলো, কাজে কোন চ্যালেঞ্জ আসলো – এসব স্বাভাবিকভাবে শেয়ার করুন।
- যদি কোন কিছু আপনাকে বিব্রত বা অস্বস্তিকর করে, সেটি গোপন না করে সময়মত আলোচনা করুন।
- বিশ্বাস ভঙ্গ করার মতো কোন আচরণ বা অস্পষ্টতা থেকে দূরে থাকুন।
বিশ্বাস শুধু বিশ্বস্ত থাকাই নয়, বরং আপনার পার্টনারকেও বিশ্বস্ত হতে দেওয়া। অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ বা জেরার মাধ্যমে বিশ্বাস আনা যায় না।
৫. ভবিষ্যতের জন্য একটি সাধারণ পরিকল্পনা রাখুন
দূরত্ব কতদিন থাকবে? পরবর্তী কবে দেখা হবে? শেষ পর্যন্ত একসাথে থাকবেন কীভাবে? লং ডিস্টেন্স লাভ-এর ক্ষেত্রে এই প্রশ্নগুলোর উত্তরের দিকে এগোনোর একটি রোডম্যাপ থাকা জরুরি।
এটি একটি শেয়ার্ড গোল তৈরি করে, যা কষ্টকর সময়ে ধৈর্য ধারণে সহায়তা করে। পরিকল্পনাটি সম্পূর্ণ নির্দিষ্ট না হলেও অন্তত একটি সাধারণ ফ্রেমওয়ার্ক থাকা উচিত। উদাহরণস্বরূপ, “আমরা আগামী ছয় মাসে অন্তত একবার দেখা করব” বা “পরের দুই বছরের মধ্যে একই শহরে চলে আসার চেষ্টা করব”। এই প্রত্যাশা সম্পর্কে অবিচ্ছিন্ন কথা বলা প্রয়োজন।
৬. নিজের একটি পূর্ণ ও সক্রিয় জীবন গড়ে তুলুন
এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টিপসগুলোর একটি। আপনার সমগ্র জীবন এবং সুখ শুধুমাত্র আপনার পার্টনার বা সম্পর্কের উপর নির্ভরশীল হলে তা চাপ তৈরি করবে এবং শেষ পর্যন্ত বিষাক্ত হয়ে উঠবে।
- নিজের শখ, পেশা, শিক্ষা এবং বন্ধুত্বের Circle-এ বিনিয়োগ করুন।
- নতুন দক্ষতা শেখা, শরীরচর্চা, বই পড়া বা সামাজিক কাজে যুক্ত হোন।
- একটি সক্রিয় ও পূর্ণ জীবন আপনাকে আরও আকর্ষণীয়, সুখী এবং আলোচনাযোগ্য করে তুলবে।
মনে রাখবেন, একটি সুস্থ লং ডিস্টেন্স রিলেশনশিপ দুটি সম্পূর্ণ ব্যক্তির মধ্যে সংযোগ। আপনার নিজের উন্নয়ন সম্পর্কে জানতে নিজেকে মোটিভেটেড রাখার উপায় পড়তে পারেন।

৭. স্মৃতি ও অনুভূতি শেয়ার করার জন্য টেকনোলজির সর্বোচ্চ ব্যবহার
টেকনোলজি দূরত্বকে জয় করার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। শুধু কল ও মেসেজিং অ্যাপেই সীমাবদ্ধ না থেকে বিভিন্ন ডিজিটাল টুলকে কাজে লাগান।
কিছু কার্যকরী অ্যাপ ও আইডিয়া:
- শেয়ার্ড ক্যালেন্ডার (Google Calendar): গুরুত্বপূর্ণ তারিখ, পরীক্ষা, মিটিং শেয়ার করুন। পরবর্তী দেখা হওয়ার দিনগুলো কাউন্টডাউন রাখুন।
- কোলাবোরেটিভ প্লেলিস্ট (Spotify, YouTube): একসাথে গানের তালিকা তৈরি করুন যা আপনাদের মূড ও স্মৃতিকে প্রতিফলিত করে।
- ফটো শেয়ারিং অ্যালবাম (Google Photos, iCloud): দৈনন্দিন জীবনের ছবি শেয়ার করে একে অপরের দিনের অংশীদার হোন।
- কাপলিং অ্যাপস (Between, Couple): এসব অ্যাপ শেয়ার্ড টাস্ক লিস্ট, মেমোরি বক্স, এবং প্রাইভেট মেসেজিংয়ের সুযোগ দেয়।
৮. আপৎকালীন বিরোধ নিষ্পত্তির গাইডলাইন ফিক্স করুন
দূরত্বে থাকার সময় তর্ক বা ভুল বোঝাবুঝি জটিল আকার ধারণ করতে পারে। টেক্সট মেসেজে Tone বুঝতে ভুল হয়, ফোনে কথা বলা বন্ধ করে দেওয়া সহজ। তাই আগে থেকে কিছু নিয়ম ঠিক করে নিন।
- ঝগড়া হবে টেক্সটে নাকি ফোন কল/ভিডিও কলে? (সর্বদা ভিডিও কলে কথা বলার চেষ্টা করুন)।
- “কয়েক ঘন্টা/একদিন সময় চাই” – এমন টাইমআউট নিয়ম কি গ্রহণযোগ্য?
- সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কথা বলা হবে, কেবল দোষারোপ নয় – এই নীতিতে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকা।
এটি সম্পর্কের সুরক্ষাব্যবস্থা তৈরি করবে এবং ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে। কোনো সম্পর্কের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি, যেমনটি আলোচনা করা হয়েছে ব্রেকআপের পর সাধারণ ভুল ও রিকভারি টিপস-এ।
৯. স্পর্শের অভাব পূরণের জন্য বিকল্প উপায় খুঁজুন
শারীরিক স্পর্শ, একটি জড়িয়ে ধরা বা হাত ধরে রাখা লং ডিস্টেন্স রিলেশনশিপ-এ সবচেয়ে বেশিমিসিং পিস। এই অভাব পূরণের জন্য সৃজনশীল উপায় বের করুন।
- একই ব্র্যান্ডের সেন্টড লেটার বা কুশন পাঠানো যেতে পারে, যা আপনার পার্টনারের পাশে রাখবে।
- আপনার ব্যবহৃত পারফিউম/ক্রিমের একটি বোতল পাঠানো, পরিচিত গন্ধ একটি শক্তিশালী সংযোগ তৈরি করে।
- লং ডিসটেন্স টাচ ডিভাইস (Like Bond Touch) যা আপনাদের মধ্যে হালকা ভাইব্রেশন পাঠিয়ে টাচের অনুভূতি দিতে পারে।
- ভিডিও কলের সময় একইসাথে কিছু করা, যেমন একসাথে চা বানানো, যা Shared Experience তৈরি করে।
১০. ছোট ছোট মুহূর্তগুলোকে উপভোগ করতে শিখুন
চূড়ান্ত লক্ষ্য একসাথে হওয়া হলেও, যাত্রাপথের প্রতিটি ছোট মুহূর্তকে লালন করুন। প্রতিটি কল, প্রতিটি মেসেজ, পরস্পরের জন্য প্রেরিত উপহার – এসবই সম্পর্কের টিস্যু।
- আপনার পার্টনারের কাছ থেকে আসা গুড মর্নিং মেসেজটি সঞ্চয় করুন।
- সাথে দেখা হওয়ার পরের তারিখের জন্য প্ল্যান করার পাশাপাশি, আজকের ভার্চুয়াল ডেটটিকেও বিশেষ করে তুলুন।
- দূরত্বের কারণে যা যা করতে পারছেন না, তার তালিকা না করে যা যা করতে পারছেন তার তালিকা তৈরি করুন ও সেগুলো উপভোগ করুন।
এই দৃষ্টিভঙ্গি আপনাকে বর্তমানে বাস করতে এবং সম্পর্ক থেকে তাত্ক্ষণিক সুখ পেতে সাহায্য করবে।
উপসংহার: দূরত্বকে করুন পাথেয়, অন্তরায় নয়
লং ডিস্টেন্স রিলেশনশিপ নিঃসন্দেহে সহজ কোনো পথ নয়। এতে আছে একাকীত্বের মুহূর্ত, হতাশা, এবং কখনো কখনো তীব্র অভাববোধ। কিন্তু একইসাথে এটি একটি বিরাট সুযোগ। সুযোগ আরও কার্যকরীভাবে যোগাযোগ করতে শেখার, বিশ্বাসকে শক্তিশালী করার, এবং স্বাধীন ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে বিকশিত করার।
এই দশটি টিপস শুধু সম্পর্কটিকে টিকিয়ে রাখার জন্যই নয়, বরং এটিকে সমৃদ্ধ ও বিকশিত করার জন্য। দূরত্ব সম্পর্ককে দুর্বল করেনা, বরং দুর্বল সম্পর্ককেই প্রকাশ করে দেয়। একটি সুস্থ, পূর্ণ ও আন্তরিক সম্পর্ক দূরত্বের চ্যালেঞ্জকে জয় করতে পারে। নিয়মিত আলোচনা, সৃজনশীলতা, এবং ভবিষ্যতের দিকে দৃষ্টি রাখুন। আপনার প্রচেষ্টা যদি একতরফা হয়, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার বিষয় হতে পারে। সম্পর্ক নিয়ে আরও গাইডেন্সের জন্য ব্রেকআপের পর কি করবেন দেখতে পারেন।
শেষ কথা হলো, যদি দুজনই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সৎভাবে প্রচেষ্টা চালান, তাহলে লং ডিস্টেন্স রিলেশনশিপ টিকিয়ে রাখা ও তাকে ফুলে-ফেঁপে উঠতে দেখা কোনো স্বপ্ন নয়, বাস্তব অর্জন। দূরত্বকে অন্তরায় না ভেবে, সম্পর্কের জন্য একটি অনন্য অধ্যায় হিসেবে গ্রহণ করুন।
লং ডিস্টেন্স রিলেশনশিপ বিষয়ে প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
প্রশ্ন: লং ডিস্টেন্স রিলেশনশিপ সাধারণত কতদিন টিকে?
উত্তর: লং ডিস্টেন্স রিলেশনশিপের স্থায়িত্ব সময়ের সীমার উপর নির্ভরশীল নয়, বরং এর গুণগত মান, অংশীদারদের প্রতিশ্রুতি এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনার উপর নির্ভর করে। কিছু গবেষণা বলছে, যেসব জুটির একটি নির্দিষ্ট মিলনের পরিকল্পনা (যেমন, ২ বছরের মধ্যে একসাথে বসবাস) রয়েছে, তাদের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার সম্ভাবনা অনেকগুণ বেশি। চূড়ান্ত লক্ষ্য ছাড়া দীর্ঘদিন দূরের প্রেমের সম্পর্ক বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
প্রশ্ন: কিভাবে লং ডিস্টেন্স রিলেশনশিপ-এ ঈর্ষা ও অবিশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করব?
উত্তর: ঈর্ষা নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি হলো স্বচ্ছতা এবং আত্ম-সচেতনতা। প্রথমে নিজের অমূলক আশঙ্কাগুলো চিহ্নিত করুন। এরপর আপনার পার্টনারের সাথে খোলামেলা আলোচনা করুন কী আপনাকে অস্বস্তিকর করে তোলে। একসাথে সীমানা নির্ধারণ করুন (যেমন, বিপরীত লিঙ্গের বন্ধুর সাথে সময় কাটানোর ক্ষেত্রে)। সর্বোপরি, যে বিশ্বাসের উপর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, সেটিকে সচেতনভাবে লালন করুন। অবিশ্বাস দূর করতে ব্রেকআপের পর সাধারণ ভুল ও রিকভারি টিপস পড়তে পারেন।
প্রশ্ন: লং ডিস্টেন্স রিলেশনশিপ কখন শেষ করার কথা বিবেচনা করা উচিত?
উত্তর: যদি কেবলমাত্র একজন ব্যক্তি প্রচেষ্টা চালান, অন্য জন অনাগ্রহী বা বেখবর; যদি ভবিষ্যতের জন্য কোনো সাধারণ লক্ষ্য বা পরিকল্পনা তৈরি না হয়; যদি সম্পর্কটি শুধুমাত্র উদ্বেগ, অবিশ্বাস ও দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং উভয়ের ব্যক্তিগত বৃদ্ধি ও সুখকে ব্যাহত করে, তখন সম্পর্কটি পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। সম্পর্ক শেষ হওয়ার পরের করণীয় জানতে ব্রেকআপের পর কি করবেন আর্টিকেলটি দেখুন।
প্রশ্ন: লং ডিস্টেন্স চলাকালীন কীভাবে যৌন ঘনিষ্ঠতার অভাব মোকাবিলা করবেন?
উত্তর: এটি একটি স্বাভাবিক চাহিদা। একে উপেক্ষা না করে স্বাস্থ্যকর উপায়ে মোকাবিলা করুন। খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে একে অপরের কমফোর্ট লেভেল বুঝে নিন। ফ্লার্টিং টেক্সট, ভয়েস নোট, বা ভিডিও কলের মাধ্যমে ইমোশনাল ও রোমান্টিক সংযোগ বজায় রাখুন। কিছু জুটি দূর থেকে ইন্টিমেসি বজায় রাখতে সেক্সটিং বা ভিডিও কলের সাহায্য নেন, তবে এটি সম্পূর্ণভাবে উভয়ের সম্মতি ও কমফোর্ট লেভেলের উপর নির্ভরশীল।
প্রশ্ন: লং ডিস্টেন্স পার্টনারের সাথে দেখা হওয়ার পর কি স্বাভাবিক সম্পর্কের মতো অনুভব হয় না?
উত্তর: এটি খুবই সাধারণ, এবং একে “পুনঃঅভিযোজন চাপ” (Re-adjustment Stress) বলা হয়। দীর্ঘদিন দূরত্বে থাকার পর একসাথে থাকলে প্রথম কিছু সময় কিছুটা awkwardness বা দূরত্ব অনুভব হতে পারে। কারণ দুজনই আলাদাভাবে জীবনযাপন ও রুটিন তৈরি করে ফেলেছেন। এটি সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর নয়। কিছুটা সময় ও ধৈর্য ধরুন।
প্রশ্ন: লং ডিস্টেন্স রিলেশনশিপ কি বিয়ের জন্য কার্যকর?
উত্তর: অবশ্যই। অনেক দম্পতি লং ডিস্টেন্স রিলেশনশিপের মধ্য দিয়েই যান এবং শেষ পর্যন্ত সুখী দাম্পত্য জীবন গড়ে তোলেন। দূরত্বের সময়টিতে তারা একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, যোগাযোগের দক্ষতা এবং দ্বন্দ্ব সমাধানের ক্ষমতা বিকশিত করেন, যা একটি স্থায়ী বিবাহিত জীবনের জন্য অমূল্য সম্পদ। তবে শর্ত হলো, উভয়েরই একসাথে থাকার স্পষ্ট পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে।
প্রশ্ন: লং ডিস্টেন্স রিলেশনশিপ-এ মন খারাপ করলে কী করব?
উত্তর: মন খারাপ হওয়া খুবই স্বাভাবিক। এমন সময় নিজেকে ব্যস্ত রাখুন, বন্ধুদের সাথে সময় কাটান, নতুন কিছু শিখুন। আপনার অনুভূতি পার্টনারের সাথে শেয়ার করুন, কিন্তু তাকে দোষ দেবেন না। ভবিষ্যতের প্ল্যান নিয়ে কথা বলুন, যা আশা জাগাবে। প্রয়োজনে নিজেকে মোটিভেটেড রাখার উপায় অনুসরণ করুন।
