স্মার্টফোনের ১০টি গোপন ফিচার, যা অনেকেই জানে না

“হাজার হাজার টাকা খরচ করে কেনা আপনার স্মার্টফোনটির মাত্র ১০% ক্ষমতাই হয়তো আপনি ব্যবহার করছেন! বাকি ৯০% কি অজানাই থেকে যাবে? এই ১০টি গোপন ফিচার জানলে আপনার সাধারণ ফোনটিই হয়ে উঠবে একটি সুপার কম্পিউটার।”

স্মার্টফোনের গোপন ফিচার যা অনেকেই জানে না
স্মার্টফোনের ১০টি গোপন ফিচার ও টিপস

স্মার্টফোনের ১০টি গোপন ফিচার যা অনেকেই জানে না

বর্তমান সময়ে আমরা প্রায় সবাই স্মার্টফোন ব্যবহার করি। ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে রাতে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত আমাদের জীবনের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে এই ছোট ডিভাইসটি। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার হাতের এই স্মার্টফোনের ভেতরে এমন কিছু গোপন ফিচার লুকিয়ে আছে যা আপনার দৈনন্দিন জীবনকে অনেক সহজ করে দিতে পারে? আমরা অনেকেই ফোনটি শুধুমাত্র কল করা, মেসেজ পাঠানো বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্রাউজিংয়ের জন্য ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু আধুনিক স্মার্টফোনগুলো আসলে এক একটি প্রবল শক্তিশালী কম্পিউটার।

আজকের আর্টিকেলে আমি আপনাদের সাথে এমন ১০টি গোপন এবং কার্যকরী ফিচার শেয়ার করব যা সম্পর্কে অধিকাংশ ব্যবহারকারীরই ধারণা নেই। এই ফিচারগুলো জানা থাকলে আপনি আপনার ফোনের সম্পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারবেন। চলুন, জেনে নিই সেই আশ্চর্যজনক ফিচারগুলো সম্পর্কে। এছাড়াও নতুন ফোন কেনার পরিকল্পনা থাকলে আমাদের স্মার্টফোন কেনার গাইড দেখতে পারেন।

টেবিল অফ কনটেন্টস

১. স্ক্রিন পিনিং বা গেস্ট মোড (Screen Pinning)

আপনার কি কখনো এমন হয়েছে যে আপনার ফোনটি কোনো বন্ধু বা পরিবারের সদস্যকে দিয়েছিলেন এবং তারা আপনার ব্যক্তিগত মেসেজ বা ছবি দেখে ফেলেছে? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তবে স্মার্টফোনের এই ফিচারটি আপনার জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। স্ক্রিন পিনিং বা Screen Pinning ফিচারটি ব্যবহার করলে আপনি আপনার ফোনের একটি নির্দিষ্ট অ্যাপকে লক করে দিতে পারেন। অর্থাৎ, ফোনটি যাকেই দেবেন তিনি শুধুমাত্র সেই নির্দিষ্ট অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারবেন। তিনি হোম বাটনে চাপ দিয়ে অন্য কোনো অ্যাপে যেতে পারবেন না এবং নোটিফিকেশন প্যানেলও ওপেন করতে পারবেন না।

এটি ব্যবহার করা খুবই সহজ। আপনার ফোনের Settings এ গিয়ে Security বা Biometrics and security অপশনে ক্লিক করুন। সেখানে Screen Pinning অপশনটি অন করে দিন। এরপর যখনই আপনি কাউকে ফোন দেবেন, অ্যাপটি ওপেন করে রিসেন্ট অ্যাপস মেনুতে যান এবং অ্যাপ আইকনের ওপরের দিকে থাকা ‘Pin’ আইকনে ট্যাপ করুন। এই ফিচারটি আপনার সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। ফোন ফেরত পাওয়ার পর আনপিন করতে আপনাকে আপনার পাসওয়ার্ড বা প্যাটার্ন দিতে হবে।

২. নোটিফিকেশন হিস্ট্রি (Notification History)

প্রায়ই আমাদের ফোনে বিভিন্ন মেসেজ বা নোটিফিকেশন আসে। অসাবধানতাবশত আমরা কখনো কখনো গুরুত্বপূর্ণ নোটিফিকেশনটি সোয়াইপ করে মুছে ফেলি এবং পরে মনে করতে পারি না যে মেসেজটিতে আসলে কী ছিল। এই সমস্যা সমাধানের জন্য স্মার্টফোনের নোটিফিকেশন হিস্ট্রি ফিচারটি ব্যবহার করা যেতে পারে। এই ফিচারটি চালু করলে ফোনে আসা সব নোটিফিকেশনের একটি তালিকা বা লগ সংরক্ষিত থাকে।

এটি চালু করার জন্য Settings এ যান এবং Apps & Notifications অপশনে ক্লিক করুন। এরপর Notifications অপশনে গিয়ে Notification History নামক ফিচারটি অন করে দিন। এখন থেকে আপনি ভুলবশত মুছে ফেলা নোটিফিকেশনগুলোও পরবর্তী ২৪ ঘন্টার মধ্যে যেকোনো সময় দেখতে পারবেন। এটি বিশেষ করে ওটিপি (OTP) বা ব্যাংকিং মেসেজের ক্ষেত্রে খুব কাজে লাগে।

৩. ওয়ান-হ্যান্ডেড মোড (One-Handed Mode)

বর্তমানে স্মার্টফোনগুলোর স্ক্রিন সাইজ বড় হওয়ার কারণে অনেক সময় এক হাতে ফোন ব্যবহার করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। বিশেষ করে যারা ছোট হাতের অধিকারী তাদের জন্য বড় স্ক্রিনের ফোনের উপরের দিকের কন্ট্রোলগুলো ব্যবহার করা বেশ অসুবিধাজনক। এই সমস্যা সমাধানের জন্য স্মার্টফোনের ওয়ান-হ্যান্ডেড মোড ফিচারটি চালু করা হয়েছে।

এই ফিচারটি চালু করলে স্ক্রিনের সবকিছু নিচের দিকে চলে আসে, ফলে আপনার আঙুলের নাগালে সবকিছু পৌঁছে যায়। বেশিরভাগ অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এটি Settings > Display > Advanced > One-handed mode থেকে পাওয়া যায়। আবার অনেক ফোনে স্ক্রিনের যেকোনো কোণায় আঙুল সোয়াইপ করেও এই মোড অ্যাক্টিভেট করা যায়। এটি ব্যবহার করলে বাসে বা রাস্তায় চলার সময় ফোন ব্যবহার করা অনেক সহজ হয়।

৪. লেন্স বা টেক্সট স্ক্যানিং (Google Lens)

স্মার্টফোনের ক্যামেরা শুধুমাত্র ছবি তোলার জন্য নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী স্ক্যানার হিসেবেও কাজ করতে পারে। গুগল লেন্স (Google Lens) ফিচারটি ব্যবহার করলে আপনি বাস্তব জগতের যেকোনো বস্তু সম্পর্কে তথ্য জানতে পারেন। কিন্তু এর মধ্যে সবচেয়ে উপকারী ফিচার হলো টেক্সট স্ক্যানিং। আপনার যদি কোনো বইয়ের পাতা বা কোনো ডকুমেন্ট থেকে টেক্সট কপি করার দরকার হয়, তবে আপনাকে আর টাইপ করতে হবে না।

আপনার ক্যামেরা অ্যাপ ওপেন করুন এবং গুগল লেন্স আইকনে ক্লিক করুন। ক্যামেরা যে টেক্সটের ওপর ফোকাস করবে, সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্যান হবে এবং আপনি সেই টেক্সট সিলেক্ট করে কপি করতে পারবেন বা অনুবাদ (Translate) করতে পারবেন। এছাড়াও যারা ওয়েবসাইট বা ব্লগ ম্যানেজ করেন, তাদের জন্য ফোন দিয়েই কনটেন্ট তৈরির কাজ সহজ করতে পারে এই ফিচার। আপনার ওয়েবসাইটকে আরও ভালো করতে সেরা ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগইন সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। গুগল লেন্স ব্যবহার করে আপনি ব্যবসায়িক কার্ড বা ভিজিটিং কার্ডও সরাসরি কন্টাক্ট লিস্টে সেভ করতে পারেন।

৫. স্প্লিট স্ক্রিন মোড (Split Screen Mode)

মাল্টিটাস্কিং বা একসাথে একাধিক কাজ করার জন্য স্মার্টফোনের স্প্লিট স্ক্রিন মোড অত্যন্ত জনপ্রিয়। আপনি যদি একটি ভিডিও দেখার সময় অন্য কাউকে মেসেজ দিতে চান অথবা ইন্টারনেট ব্রাউজ করার সময় নোট নিতে চান, তবে এই ফিচারটি আপনার জন্য। এটি আপনার ফোনের স্ক্রিনকে দুই ভাগে ভাগ করে, যাতে আপনি দুটি অ্যাপ একই সময়ে ব্যবহার করতে পারেন।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এটি ব্যবহার করার জন্য প্রথমে একটি অ্যাপ ওপেন করুন। এরপর রিসেন্ট অ্যাপস মেনুতে গিয়ে সেই অ্যাপের আইকনের ওপর ক্লিক করুন এবং Split Screen অপশনটি সিলেক্ট করুন। এখন আপনার স্ক্রিনের উপরের অংশে প্রথম অ্যাপটি ওপেন থাকবে এবং নিচের অংশে আপনি দ্বিতীয় অ্যাপটি সিলেক্ট করতে পারবেন। আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্যও সাম্প্রতিক আপডেটগুলোতে অনুরূপ ফিচার যুক্ত করা হয়েছে যা বর্তমানে দারুণ কাজ করছে।

৬. জেসচার কন্ট্রোল এবং শর্টকাট (Gesture Control)

প্রযুক্তির এই যুগে স্মার্টফোনের ব্যবহার আরও স্মার্ট হয়েছে জেসচার কন্ট্রোল বা নড়াচড়া দিয়ে ফোন কন্ট্রোল করার মাধ্যমে। অনেক সময় আমাদের হাত ভেজা থাকে বা আমরা কোনো কাজে ব্যস্ত থাকি, তখন স্ক্রিনে টাচ করা সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে এয়ার জেসচার বা স্মার্ট জেসচার ফিচারটি খুব কাজে লাগে।

উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি আপনার হাতের কাছে ফোন না রেখেই স্ক্রিনের ওপর দিয়ে হাত ওড়ান, তবে অনেক ফোনে নোটিফিকেশন প্যানেল বা কল সাইলেন্ট হয়ে যায়। এছাড়াও ডাবল ট্যাপ টু ওয়েক (Double Tap to Wake) বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরে সোয়াইপ করে নোটিফিকেশন ওপেন করার মতো শর্টকাটগুলো ব্যবহার করলে ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা অনেক গতি পায়। জেসচার রিকগনিশন প্রযুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে উইকিপিডিয়া দেখতে পারেন। এই শর্টকাটগুলো সেট করলে আপনাকে বারবার স্ক্রিনে টাচ করতে হয় না, যা আপনার সময় বাঁচায়।

৭. ম্যাগনিফিকেশন বা জুম ফিচার (Magnification)

আমাদের মধ্যে অনেকেই চশমা বা লেন্স ছাড়া ছোট লেখা পড়তে অসুবিধা বোধ করি। অথবা কোনো ছবির খুঁটিনাটি দেখার জন্য জুম করা প্রয়োজন হয়। স্মার্টফোনের এই ফিচারটি একটি জাদুকরী লেন্সের মতো কাজ করে। সাধারণত আমরা ছবিতে দুই আঙুল দিয়ে জুম করি, কিন্তু ফোনের অ্যাক্সেসিবিলিটি সেটিংস থেকে ম্যাগনিফিকেশন ফিচারটি চালু করলে আপনি পুরো ফোনের স্ক্রিন জুম করতে পারবেন।

এটি চালু করার জন্য Settings > Accessibility > Magnification অপশনে গিয়ে শর্টকাট সেট করতে পারেন। সাধারণত স্ক্রিনের যেকোনো প্রান্ত থেকে তিনবার ট্যাপ করলে স্ক্রিনটি জুম হয়ে যাবে। এটি বিশেষ করে যারা চোখের দৃষ্টি কিছুটা দুর্বল তাদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। এছাড়া যারা ভিডিও এডিটিং বা ডিজাইনের কাজ করেন, তাদের জন্যও পিক্সেল লেভেলের কাজের জন্য এই ফিচারটি জরুরি।

৮. স্মার্ট লক এবং ফেস আনলক (Smart Lock)

নিরাপত্তার কথা চিন্তা করলে আমরা সবাই আমাদের ফোনে প্যাটার্ন, পিন বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট লক ব্যবহার করি। কিন্তু বারবার লক খোলাটা কিছুটা বিরক্তিকর হতে পারে, বিশেষ করে যখন আমরা নিরাপদ পরিবেশে থাকি। অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য স্মার্টফোনের Smart Lock ফিচারটি এই সমস্যার সমাধান। এটি আপনার অবস্থান বা ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে ফোনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নমনীয় করে দেয়।

Smart Lock ফিচারে কিছু অপশন থাকে, যেমন- On-body detection (আপনি ফোনটি হাতে ধরে থাকলে আনলক থাকবে), Trusted places (আপনার বাড়ি বা অফিসের মতো নির্দিষ্ট স্থানে গেলে লক অটোমেটিক খুলে যাবে) এবং Trusted devices (আপনার স্মার্টওয়াচ বা ব্লুটুথ ডিভাইসের সাথে কানেক্টেড থাকলে লক থাকবে না)। এই ফিচারটি আপনার সুবিধার সাথে সাথে নিরাপত্তারও ভারসাম্য রক্ষা করে। তবে এটি ব্যবহারের আগে সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে সতর্ক থাকা উচিত।

৯. ব্যাকগ্রাউন্ড ডাটা লিমিট (Background Data Limit)

ইন্টারনেট ডাটা বা মোবাইল প্যাকেজ আমাদের অনেকের জন্যই একটি সীমিত সম্পদ। অনেক সময় আমরা দেখি যে আমরা ইন্টারনেট ব্রাউজ করছি না অথচ ডাটা কমে যাচ্ছে। এর কারণ হলো ব্যাকগ্রাউন্ডে চলমান অ্যাপসমূহ। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা অন্যান্য অ্যাপগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে এবং ডাটা ব্যবহার করতে থাকে। স্মার্টফোনের ডাটা সেভিং বা ব্যাকগ্রাউন্ড ডাটা লিমিট ফিচারটি ব্যবহার করলে আপনি ডাটা খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

Settings > Data Usage > Data Saver অপশনে গিয়ে আপনি এটি অন করতে পারেন। এছাড়াও নির্দিষ্ট কোনো অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড ডাটা বন্ধ করতে চাইলে Data Usage-এর অ্যাপ লিস্ট থেকে সেই অ্যাপটি সিলেক্ট করে Restrict background data অপশনে ক্লিক করুন। এটি নিশ্চিত করে যে ডাটা শুধুমাত্র তখনই ব্যবহৃত হবে যখন আপনি নিজে সরাসরি অ্যাপটি ব্যবহার করছেন। ৫জি ইন্টারনেট যুগে এসেও ডাটা সেভ করা একটি স্মার্ট অভ্যাস।

১০. ভয়েস কমান্ড বা গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট (Voice Control)

বর্তমান সময়ে স্মার্টফোনের সবচেয়ে শক্তিশালী ফিচারগুলোর মধ্যে একটি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ভিত্তিক ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট। আপনি যদি হাতে কোনো কাজ করছেন বা গাড়ি চালাচ্ছেন, তবে টাইপ করা বা স্ক্রিন ছোঁয়া সম্ভব হয় না। এই মুহূর্তে আপনার কণ্ঠস্বরই হলো আপনার ফোনের রিমোট কন্ট্রোল। গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট বা সিরি (Siri) ব্যবহার করে আপনি ফোনের সব কাজ করতে পারেন।

আপনি কেবল “Ok Google” বা “Hey Google” বলে ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টকে এক্টিভেট করতে পারেন। আপনি বলতে পারেন- “আমাকে সকাল ৭টার অ্যালার্ম দাও”, “ঢাকার আবহাওয়া কেমন?”, অথবা “ইউটিউবে বাংলা গান চালাও”। এটি কেবল কমান্ড প্রসেস করে না, বরং আপনার কথোপকথন বা প্রশ্নেরও উত্তর দিতে পারে। নিজের প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে এবং সময় বাঁচাতে এই ফিচারটি সঠিকভাবে ব্যবহার করা উচিত। সফলতার জন্য ধারাবাহিকতা এবং অনুপ্রেরণার গুরুত্ব সম্পর্কে আমাদের লেখা মোটিভেশন গাইডলাইন পড়তে পারেন। ভয়েস কমান্ড ব্যবহার করলে আপনি দেখবেন আপনার কাজের গতি অনেক বেড়ে গেছে।

উপসংহার

প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত এগিয়ে চলেছে এবং স্মার্টফোনের ফিচারগুলোও দিন দিন আরও স্মার্ট হচ্ছে। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ১০টি গোপন ফিচার সম্পর্কে জানলাম যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করে তুলতে পারে। ফোনের এই ফিচারগুলো সম্পর্কে জানা থাকলে আপনি শুধুমাত্র একজন ব্যবহারকারী নন, বরং আপনি হয়ে উঠবেন একজন স্মার্ট ব্যবহারকারী। স্ক্রিন পিনিং থেকে শুরু করে ভয়েস কমান্ড—প্রতিটি ফিচারই আপনার নিরাপত্তা, সময় এবং সুবিধার কথা মাথায় রেখে তৈরি করা।

আপনার ফোনের সেটিংসে প্রবেশ করুন এবং এই ফিচারগুলো খুঁজে বের করে ব্যবহার শুরু করুন। এতে করে আপনার ফোনের কর্মক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে। যদি আপনি একজন টেক-প্রেমিক হন বা নতুন ফোন কেনার পরিকল্পনা করছেন, তবে এই ফিচারগুলো থাকা আবশ্যিক। আমাদের ওয়েবসাইটের অন্যান্য আর্টিকেল পড়ে আপনি প্রযুক্তি সম্পর্কে আরও অনেক কিছু জানতে পারবেন। স্মার্টফোনের এই অজানা দিকগুলো সম্পর্কে আপনার যদি কোনো প্রশ্ন থাকে বা আপনি আরও কোনো টিপস জানেন, তবে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।


সাধারণ প্রশ্নাবলী (FAQ)

১. স্মার্টফোনের গেস্ট মোড কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?
স্মার্টফোনের গেস্ট মোড বা স্ক্রিন পিনিং এমন একটি ফিচার যা আপনাকে আপনার ফোনটি অন্য কাউকে দেওয়ার সময় নিরাপদ রাখতে সাহায্য করে। এটি সক্রিয় করলে ব্যবহারকারী শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবে এবং অন্য কোনো অ্যাপে প্রবেশ করতে পারবে না বা নোটিফিকেশন দেখতে পারবে না।

২. অ্যান্ড্রয়েড ফোনে নোটিফিকেশন হিস্ট্রি কীভাবে দেখা যায়?
আপনার ফোনের সেটিংসে গিয়ে Apps & Notifications-এ ক্লিক করে Notifications-এ গেলে Notification History বা নোটিফিকেশনের ইতিহাস অপশনটি পাওয়া যাবে। এটি চালু করলে ভুলবশত সোয়াইপ করে মুছে ফেলা নোটিফিকেশনগুলো পরবর্তীতে দেখা যাবে।

৩. স্মার্টফোন দিয়ে কি কম্পিউটারের কাজ করা সম্ভব?
জি, অবশ্যই। ডেক্সটপ মোড (Desktop Mode) বা ওয়াই-ফাই ডিসপ্লে ব্যবহার করে আপনি আপনার স্মার্টফোনটিকে একটি কম্পিউটার মাউস বা কীবোর্ডের মতো ব্যবহার করতে পারেন এবং বড় স্ক্রিনে কাজ করতে পারেন।

৪. ফোনের ব্যাটারি লাইফ বাড়ানোর জন্য কোন গোপন সেটিংস ব্যবহার করা যায়?
Adaptive Battery বা অ্যাডাপটিভ ব্যাটারি এবং Background Restriction সেটিংসগুলো ব্যবহার করলে ফোনের ব্যাটারি লাইফ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। এছাড়াও অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড ডাটা বন্ধ করা ব্যাটারি সেভ করার জন্য জরুরি।

৫. স্মার্টফোনের ক্যামেরা দিয়ে কি নথিপত্র স্ক্যান করা যায়?
হ্যাঁ, বর্তমানে প্রায় সব স্মার্টফোনেই Google Lens বা নেটিভ স্ক্যানার অপশন থাকে। ক্যামেরা অ্যাপের মাধ্যমে আপনি সরাসরি নথিপত্র, ভিজিটিং কার্ড বা গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র স্ক্যান করে পিডিএফ (PDF) আকারে সংরক্ষণ করতে পারেন।

৬. স্মার্টফোনের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর দিয়ে আরও কী কী কাজ করা যায়?
ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর শুধুমাত্র ফোন লক খোলার জন্য নয়; এটি দিয়ে অ্যাপের স্ক্রিনশট নেওয়া, নোটিফিকেশন প্যানেল ডাউন করা বা মিউজিক প্লেয়ার কন্ট্রোল করার জন্য গেসচার সেট করা যায়।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।